29 June 2016

নবায়নযোগ্য জ্বালানীঃ কতটা পিছিয়ে বাংলাদেশ?

বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবহারের অসীম সম্ভাবনা ধারণ করে আছে। অর্ধেকেরও বেশী জনগোষ্ঠির বিদ্যুৎ সুবিধাহীন জীবন যাপন দেশ জুড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানী সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করেছে। প্রায় শেষ হয়ে আসা গ্যাস রিজার্ভ, অতি সামান্য তেল এবং কয়লার যোগান, সেই সাথে বাড়তে থাকা আমদানী ব্যয় নবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবহারের তীব্র চাহিদা তৈরী করেছে। আর বিশাল উদ্যোমী শিক্ষিত তরুণ সমাজ গবেষণা এবং বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ খাতের টেকসই ভিত্তি প্রদানে তৈরী হয়ে আছে। 
 
পৃথিবীর অনেক দেশই এসবের তুলনায় অনেক কম সুবিধা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র দূরদর্শিতার কারণে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। কিন্তু নীতি-নির্ধারণী অজ্ঞতা, সরকারী বিনিয়োগের অভাব, ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রার নিয়ত পরিবর্তন আর বাস্তবভিত্তিক করনীয় ঠিক না করতে পারার কারণে নবায়নযোগ্য জ্বালানী খাত উন্নয়নে সামগ্রিক বিচারে আমরা যে শুধু স্থবির হয়ে আছি তাই নয় বরং বৈশ্বিক বিচারে আমরা ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ছি। 
 

নীতিমালা কেন্দ্রিক অব্যবস্থাপনা

যে কোন খাতের সুষ্ঠ বিকাশের অন্যতম প্রধান শর্ত হচ্ছে সঠিক নীতিমালা প্রণয়ন। সরকার ঘোষিত সুষ্ঠ নীতিমালা একদিকে যেমন বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটায় অন্যদিকে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে, সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক গবেষণা ও মানোন্নয়নের নিশ্চয়তা প্রদান করে, আর সেই সাথে সকলকে কোন বিশেষ খাত সম্প্রসারণে উৎসাহ প্রদান করে। অন্যান্য দেশ যেখানে বাস্তবভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়ন করে নবায়নযোগ্য জ্বালানীকে জীবাশ্ম জ্বালানী ব্যবহার ব্যবস্থার সাথে সমন্বয় করে ধীরে ধীরে একে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে তুলছে ঠিক সে সময়ই বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবস্থাপনায় এক বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরী করে রেখেছে। 
 
জ্বালানী নীতিমালাগুলোতে না আছে কোন ধারাবাহিকতা, না আছে কোন গবেষণার ছাপ, না আছে কোন বাস্তবতার প্রতিফলন। জ্বালানী নীতিমালাগুলো একটু গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে এবং একটির সাথে আগেরটির তুলনা করলে নীতিগত ভন্ডামী ফুটে ওঠে পরিষ্কারভাবে। উদারহরণ স্বরূপ ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পটির কথা উল্লেখ করা যায় যেটি ২০১০ সালের ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে ২০১২ সালের জুন মাসের মধ্যেই উৎপাদনে আসার কথা ছিল। কিন্তু ২০১১ সালে একটি পুনঃঘোষণা দেয়া হয় যা অনুযায়ী সেটি স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় ২০১৩ সালের জানুয়ারী মাসের মধ্যেই। কিন্তু কাজের এতটুকুও অগ্রগতি না হওয়ায় ২০১২ সালে আরেকটি পুনঃঘোষণা দেয়া হয় যা অনুযায়ী সেটি স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় ২০১৫ সালের মার্চ মাস। এই ধারাবাহিকতায় আর কাজের অগ্রগতি বিবেচনায় কারোরই বুঝতে আসুবিধা থাকার কথা নয় যে এটি আগামী বেশ কয়েকটি বছর কেবল ঘোষণা-পুনঃঘোষণার মাঝেই বন্দী হয়ে থাকবে। 
 
জ্বালানী খরচ- ধনীর কম, গরীবের বেশী
 
ইডকলের হিসাব অনুসারে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ লক্ষ সোলার হোম সিস্টেমের ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে, যার মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১৩০ মেগাওয়াট। এর ব্যবহারকারীরা প্রায় সবাই প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দা যেখানে বেশিরভাগ মানুষই হতদরিদ্র। অথচ সারাদিনে মাত্র ৩-৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য ৪০ ওয়াট ক্ষমতার সোলার হোম সিস্টেম বসাতে খরচ করতে হয় প্রায় ১২-১৫ হাজার টাকা। সে হিসেবে প্রতি ইউনিটে প্রায় ৬০ টাকা খরচ করে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে গ্রামগুলো আলোকিত করছে নিতান্তই অসচ্ছল, গরীব, খেটে খাওয়া মানুষ। এতেই বুঝা যায় বিদ্যুতের চাহিদা আর নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের তাৎপর্য কতটা তীব্র। অথচ নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ পাবার ক্ষেত্রে মাত্র ৩ ভাগ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য শক্তি হতে মেটানোর নিয়মটিকে শহুরে মানুষেরা আগ্রাহ্য করেছি তীব্রভাবে, নিয়েছি সোলার প্যানেল ভাড়া নেয়া, কর্তা ব্যক্তিদের ঘুষ দেয়া সহ নানা ছল-চাতুরীর আশ্রয়। 
 
টাকা না থাকার অজুহাতে শিল্প কারখানা মালিকেরা সোলার হিটিং সিস্টেম ব্যবহার করেন না, বায়োগ্যাস ব্যবহার অত্যন্ত সাশ্রয়ী হওয়া সত্ত্বেও নামমাত্র দামে গ্যাস সরবরাহের সুবিধা থাকায় নামিদামী হোটেল-রেস্টুরেন্ট গুলোর একটিও বায়োগ্যাস উৎপাদনে এগিয়ে আসেনি। অন্যদিকে শ্রীলংকায় বর্জ্য যেখানে-সেখানে ফেলার সুযোগ না থাকায় এবং সরকারী সহযোগীতায় বিভিন্ন সংস্থা আর্থিক ও কারিগরী সুবিধা প্রদান করায় বাণিজ্যিক রেস্টুরেন্টগুলোতে বায়োগ্যাস ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয়েছে। এতে একদিকে যেমন সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গতি এসেছে, আমদানী করা এলপিজি গ্যাসের চাহিদা কমছে, অপরদিকে উচ্চমানের জৈব সারের যোগানও বাড়ছে। তাই এ কথা বলাই যায় যে আলোকিত বাংলাদেশ, সবার জন্য বিদ্যুৎ আর নবায়নযোগ্য শক্তির সর্বোতঃ ব্যবহার নিশ্চিতঃকরণ গরীব মানুষের পকেট কাটা টাকায় হবে না। জ্বালানী স্বনির্ভরতা অর্জনে শহুরে বিত্তবানদেরও অংশ নিতে হবে, যারা মাত্র ছয় টাকা ইউনিটে বিলাসী শীতাতাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র আর মাইক্রোওয়েভ ওভেন ব্যবহার করছে। 
 
 

ভ্রান্তি বিলাস

নবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবহার ব্যায়বহুল বিধায় এর বহুল ব্যবহার সম্ভব নয়-এমন ভ্রান্তিবিলাসে গা ভাসিয়ে দেয়ার কোন সুযোগ নেই। সৌরশক্তি, বাতাসের গতি কিংবা পানির প্রবাহ এসব কিছু আমাদের চারপাশেই বিদ্যমান। শুধুমাত্র প্রয়োজন এর রূপান্তরকরণ। আর যেহেতু এই রূপান্তর সম্পূ্র্ণভাবে প্রযুক্তি নির্ভর তাই সময়ের আবর্তনে প্রযুক্তির নিয়ত উন্নতিতে সকল ধরণের নবায়নযোগ্য জ্বালানীর ব্যবহার খরচ কেবলই কমছে। ঠিক এ কারণেই সৌর শক্তিকেন্দ্রিক বিনিয়োগ আগের বছরের চেয়ে ২০১৩ সালে ২২ শতাংশ কমে গেলেও নতুন সোলার প্যানলের ব্যবহার বেড়েছে ৩২ শতাংশ। [৪] 
 
 
 ২০০০ সালে বিশ্বে মোট বায়ু ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন যেখানে ছিল ১৭,০০০ মেগাওয়াট তা ২০১৩ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৩,১৮,০০০ মেগাওয়াটে। অপরদিকে সৌরভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০০০ সালে ছিল ২,৮০০ মেগাওয়াট আর তা ২০১৩ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১,৪২,০০০ মেগাওয়াটে। [৪] এমনিভাবে প্রযুক্তির ক্রমোন্নয়নে কমতে থাকা দামের কারণে বায়োগ্যাস , জিওথার্মাল, টাইডাল, মাইক্রো-পিকো হাইড্রো এসব কিছুরই ব্যবহার বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। এই ক্রমবৃদ্ধির হার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, ২০৩০ সালের মধ্যেই সৌর এবং বায়ুভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে দাঁড়াবে যথাক্রমে ৫,৮০,০০০ মেগাওয়াট এবং ১৭,৬৮,০০০ মেগাওয়াটে। [৫] 
 
অন্যদিকে বর্তমানের ১১০ ডলার ব্যারেলের আমদানীকৃত তেলের দাম ২০৩০ সালের মধ্যেই হবে আকাশচুম্বী আর কমতে থাকা রিজার্ভের কারণে ২০৫০ সালের পর টাকা দিয়েও হয়তোবা তা কেনা যাবে না। গবেষণায় দেখা গেছে যে ২০২০ সালের পরই আমাদের গ্যাস সংকট প্রকট হয়ে উঠবে আর নতুন কোন রিজার্ভ আবিষ্কার না করা গেলে ২০৩০ সালের পর আমাদের কোন গ্যাসের উৎপাদন থাকবে না। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর নবায়নযোগ্য জ্বালানী কেন্দ্রিক ভবিষ্যৎ নীতিমালা গ্রহণের কারণে ২০২০ সালে জীবাশ্ম জ্বালানী ভিত্তিক খরচ কমবে ১৫৮ বিলিয়ন ইউরো, ২০৩০ সালে কমবে ৩২৫ বিলিয়ন ইউরো আর ২০৫০ সালে খরচ কমবে ১০৯০ বিলিয়ন ইউরো। অর্থ নয় বরং নীতিমালা প্রণয়ন এবং এর সুষ্ঠ বাস্তবায়নই যে নবায়নযোগ্য জ্বালানী খাত উন্নয়নে সবচেয়ে গুরুতপূর্ণ তা আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতকে দেখলেই বোঝা যায়। ভারত এরই মাঝে সর্বোচ্চ নবায়নযোগ্য জ্বালানী ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। জলবিদ্যুৎ ব্যতীত এর নবায়নযোগ্য জ্বালানী ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ২৭,০০০ মেগাওয়াট আর জলবিদ্যুৎ সহ তা ৭১,০০০ মেগাওয়াট। [৪] 
 
তাই প্রযুক্তির উচ্চমূল্যের কারণে নবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবহার জনপ্রিয় করা যাচ্ছে না-এমন যুক্তি নীতি নির্ধারকদের অজ্ঞতারই পরিচায়ক। মনে রাখা প্রয়োজন, এদেশে যে প্রায় সোয়া কোটি মানুষ সোলার হোম সিস্টেম ব্যবহার করছেন তারা কেউই শহুরে সচ্ছল নন বরং গ্রাম কিংবা মফস্বলে থাকা তুলনামূলক অসচ্ছল মানুষ। 
 
স্নো-বল এফেক্ট
 
নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার হচ্ছে স্নো-বল এফেক্টের মত। বরফ কুন্ডলী যেমন করে গড়িয়ে চলার সাথে সাথে আকারে বড় হতে থাকে ঠিক তেমনি গ্রামের একটি ঘরের সোলার প্যানেলের সুবিধা পুরো গ্রামকে সোলার প্যানেল ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করে। কোন একটি বাড়িতে বায়োগ্যাসের উৎপাদন আশেপাশের বাড়িগুলোতেও এটি ব্যবহারে আগ্রহ তৈরী করে। এমনি ভাবেই তৈরী হয় সক্ষমতা, অর্জিত হয় নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা। আর এর সাথে সাথে আবশ্যিক অনুষঙ্গ হিসেবে বন্ধ হয় জ্বালানীর অপচয়, বাস্তবায়িত হয় ডিমান্ড সাইড ম্যানেজমেন্ট, নিশ্চিত হয় সকল যন্ত্রাংশের সর্বোচ্চ কর্মদক্ষতা। এসব প্রতিটি ক্ষেত্রেই পিছিয়ে বাংলাদেশ। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চলছে মাত্র ২৫-৩০ শতাংশ কর্মদক্ষতায়। শপিং মল গুলো গড়ে উঠছে কাচে ঘেরা সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে। আর এসি চালিয়ে কর্তা ব্যক্তিরা অফিস করছেন কোট গায়ে চেপে কেতাদুরস্থ হয়ে। এমনি যদি চলতেই থাকে তবে আমাদের জ্বালানী দারিদ্র্য ঘুচবে না কোন কালেও, নবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবহারের অসীম সম্ভাবনা শুধু কাগজেই থাকবে, সবার জন্য বিদ্যুৎ হয়ে থাকবে শুধুই স্বপ্ন। 
 
আমাদের গ্যাস রিজার্ভ কমে আসছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নিয়ত বাড়তে থাকা তেলের চাহিদা মেটাতে আমদানী ব্যয় বাড়ছে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্রের জন্য বিতর্কিত স্থান নির্বাচনে ঝুকির মুখে পড়েছে সুন্দরবন আর বাড়তে থাকা বিদ্যুতের দামে নাকাল হচ্ছি আমরা। জ্বালানী খাতের গভীর এই ক্ষত যে কুইক রেন্টালের মত কোন টোটকা সমাধানে সারবে না তা এরই মাঝে প্রমাণ হয়ে গেছে। এখন সময় এসেছে বর্তমান সংকটকে স্বীকার করে বাস্তব ভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেয়ার। ভবিষ্যৎ জ্বালানী স্বয়ংসম্পূর্ণতা অজনে নবায়নযোগ্য জ্বালানী কেন্দ্রিক নীতিমালা প্রণয়নের। নবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবহার এখন আর শুধু পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের অংশ নয় বরং বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায়। এ খাতে বিনিয়োগ-গবেষণা যত দ্রুত শুরু হবে ততই আমাদের জন্য মঙ্গল। আর তা না’হলে পিছিয়ে পড়বো আমরা, হারাবো সূর্য-পানি-বাতাসের উপর আমাদের মালিকানা।
 
 লিখেছেন মওদুদ রহমান সর্বজনকথা, নভেম্বর, ২০১৫ সংখ্যায় প্রকাশিত <https://sarbojonkotha.files.wordpress.com/...>

তথ্যসূত্রঃ

[১] Bangladesh Economic Review 2010
[২] Bangladesh Economic Review 2011
[৩] Bangladesh Economic Review 2012
[৪] REN21, Renewable Energy Policy Network for 21st Century, Renewables 2014 Global Status Report, pp 1-215
[৫] REN21, Renewable Energy Policy Network for the 21st Century, Renewable Global Future Status Report 2013, pp 1-76
[৬] Levelised Cost of Electricity, Renewable Energy Technologies Study, November 2013, FRAUNHOFER INSTITUTE FOR SOLAR ENERGY SYSTEMS ISE, pp 1-50] 
 
 **** https://web.facebook.com/notes/%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%A5%E0%A6%BE-sarbojonkotha/%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%A8%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%83-%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A6%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6/1773807789502350?qid=6301302991248548770&mf_story_key=-3206682607091292919

22 November 2014

ক্যান্সার বা টিউমার কি ? সংক্ষিপ্ত বর্ণনা ।

মানুষের শরীরে অনেক ধরণের রোগ হতে পারে। তার মধ্যে ক্যান্সার অন্যতম । এখনও পর্যন্ত এই রোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। কারণ হচ্ছে প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার রোগ সহজে ধরা পরে না, ফলে শেষ পর্যায়ে গিয়ে ভালো কোনও চিকিৎসা দেয়াও সম্ভব হয় না।


====================

টিউমার শরীরের কোনো অংশের অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন থেকে তৈরি হয়৷ এই সকল কোষের ভিতর তখন চারিত্রিক কিছু পরিবর্তন ঘটে৷ আশেপাশের স্বাভাবিক কোষের থেকে এগুলো সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে পরে এবং কাজেও অস্বভাবিকতা দেখা দেয়৷ এসকল কিছু মিলেই দেখা যায় শরীরের নির্দিষ্ট কোনো অঙ্গে বা অংশে অতিরিক্ত বৃদ্ধি ঘটেছে - একেই বলা হয় টিউমার৷



ক্যান্সার সাধারণত কতোটুকু ছড়িয়ে পরেছে এবং কয়টি লসিকা গ্রন্থি আক্রান্ত হয়েছে সেটার উপর নির্ভর করে ক্যান্সারের ভয়াবহতা নির্ধারণ করা হয়৷ বর্তমানে অতিউন্নত পরীক্ষা-নিরিক্ষার মাধ্যমে আমরা প্রথম পর্যায়েই ক্যান্সার নির্ণয় করে তার চিকিত্‌সা দিয়ে রোগীকে সুস্থ করে তুলতে পারি৷ ক্যান্সারের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরিক্ষার মধ্যে আছে-আক্রান্ত স্থান হতে কোষ নিয়ে বায়োপসি, সিটিস্ক্যান, টিউমার মারকার৷ তাছাড়াও এক্সরে, এন্ডোসকপি, আলট্রাসনোগ্রাফি বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যান্সার নির্ণয় করা সম্ভব৷

প্রথম পর্যায়ে ক্যান্সার নির্ণয় করা গেলে অথবা ক্যান্সার যদি শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে যেয়ে না থাকে তবে শরীরের নির্দিষ্ট ক্যান্সার আক্রান্ত অঙ্গ বা অংশ অপারেশনের মাধ্যমে কেটে বাদ দিয়ে ক্যান্সার নির্মূল করা সম্ভব৷ তাছাড়াও কেমোথেরাপি এবং রেডিও থেরাপির মাধ্যমেও ক্যান্সারের চিকিত্‌সা দেয়া হয়ে থাকে৷ বর্তমানে আমাদের দেশেও ক্যান্সারের সুচিকিত্‌সা হয়৷
ক্যান্সার এড়াতে কিছু পরামর্শ:

* মুখের ক্যান্সার এড়াতে পান, দোক্তা, জর্দা, সুপারি, পান-মশলা খাওয়া বন্ধ করতে হবে৷
* মুখে লাল বা সাদা ঘা, ক্ষত জাতীয় ঘা বেশি দিন ধরে থাকলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহন করতে হবে৷ এক্ষেত্রে দেরি করা একদম চলবে না৷
* ধূমপান থেকে মুখ, গলা, খাদ্যনালী, পাকস্থলী, শ্বাসনালী এবং ফুসফুসের ক্যান্সারের সম্ভাবনা অনেক গুন বেড়ে যায়৷ সুতরাং অবিলম্বে ধূমপান বন্ধ রুন৷
* দীর্ঘদিন ধরে মদ্যপান করলে পাকস্থলী এবং অগ্নাশয়ের (প্যানক্রিয়াসের) ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে৷
* শিশুদের বুকের দুধ যেসকল মহিলারা খাওয়ান না তাদের স্তন ক্যান্সার বেশি হয়৷
* একটিও বাচ্চা নাই এরকম মহিলাদের স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে৷
* ফলমূল তরিতরকারি ইত্যাদি খেলে পাকস্থলীর ক্যান্সারের সম্ভাবনা কমে৷
* ভিটামিন সি যুক্ত খাবার স্তন এবং পাকস্থলীর ক্যান্সারের সম্ভাবনা কমায়৷

সাধারণ কিছু ক্যান্সারসম্পর্কে নিচে দেওয়া হলো :
১. ফুসফুস ক্যান্সার
২. স্তন ক্যান্সার
৩. জরায়ু ক্যান্সার
৪. পাকস্থলির ক্যান্সার
৫. লিউকেমিয়া
৬. প্রোস্টেট ক্যান্সার
৭. ক্যান্সার প্রতিরোধের উপায়

14 February 2012

ভ্যালেন্টাইন ডে-তে এক প্রেমিক গেছে রেস্টুরেন্টে


এক পাগলের অভ্যাস ছিল গুলতি দিয়ে যে কোন কাঁচের জানালা ভাঙ্গার । তাকে ধরে মানসিক চিকিৎসালয়ে নিয়ে আসা হল । এক বছর চিকিৎসার পর ডাক্তারের ধারনা হল রোগ মুক্তি হয়েছে, তাকে ছেড়ে দেয়া যায় । ছাড়বার আগে শেষ পরীক্ষা করার জন্য ডাক্তারের চেম্বারে তাকে ডাকা হল ।
ডাক্তার : স্যার , আমাদের ধারনা আপনি সম্পূর্ন আরোগ্য হয়েছেন । তাই আপনাকে ছেড়ে দেয়া হবে । এবার আপনি বলুন এখান থেকে ছেড়ে দেয়ার পর আপনি কি করবেন ?
পাগল : আমি ! সত্যি বলব ?
ডাক্তার : বলুন ।
পাগল : প্রথমে ভালো একটা স্যুট কিনব । তারপর সেটা পরে আমি তাজমহল হোটেলে যাবো ডিনার খেতে ।
ডাক্তার : গুড, নর্মাল ব্যাপার, তারপর ?
পাগল : তারপর সেখানে সুন্দরী এক সোসাইটি গার্লকে বলব যে, মে আই হ্যাভ এ ড্যান্স উইথ ইউ ?
ডাক্তার : গুড, নর্মাল, তারপর ?
পাগল : তারপর তাকে ডিনার খাওয়াবো । মদ খাওয়াবো ।
ডাক্তার : ঠিক আছে, তারপর ?
পাগল : তারপর তাকে হোটেলের একটা রুমে নিয়ে আসব । নীল আলো জ্বালিয়ে দেবো । স্লো মিউজিক চালিয়ে দেব ।
ডাক্তার : নর্মাল সবকিছু, তারপর ?
পাগল : তারপর ধীরে ধীরে শাড়ী খুলব, ব্লাউজ খুলব , ব্রা খুলব, পেটিকোটটা খুলে ধীরে ধীরে নামিয়ে আনব পা থেকে ।
ডাক্তার : নাথিং রং, তারপর ?
পাগল : এবার মেয়েটির শরীরে বাকী আছে তার আন্ডারওয়ার । এখন ধীরে ধীরে সেই আন্ডারওয়ারটি খুলে নেব আমি ।
ডাক্তার : তারপর ?
পাগল : তারপর আন্ডারওয়ার থেকে ইলাস্টিকের দড়িটা খুলে নেব আমি । এই ইলস্টিক দিয়ে নতুন গুলতি বানাবো । আর সেই গুলতি দিয়ে শহরের যত কাঁচের জানালা আছে সব ভেঙ্গ চুরমার করে দিব আমি ।
ডাক্তার : নিয়ে যাও পেসেন্টকে । বন্ধ করে রাখ ওকে । হি ইজ এজ সিক এজ বিফোর । নো ইমপ্রুভমেন্ট ।




মেডিকেল কলেজের প্রফেসর নতুনদের ক্লাস নিচ্ছেন।

-ভালো ডাক্তার হওয়ার দুটি শর্ত। প্রথমটি হল খুব ভালো পর্যবেক্ষন শক্তি থাকা। রুগীকে দেখেই যেন তার সম্পর্কে ধারনা করতে পারো, কোন একটা অসুখের হালকা লক্ষনও যেন বাদ না যায়। দ্বিতীয়টা হল মন শক্ত করা। যেন কিছুতেই তুমি ভড়কে না যাও।

আজকে তোমাদের পর্যবেক্ষন এবং মানসিক অবস্থার পরীক্ষা হবে। আমার সামনে একটা জারে হলুদ বর্নের তরল আছে। সবাই এক এক করে আসো আর দেখে যাও। বলো এটা কি?

একে একে সবাই এলো। সবার এক কথা এটা প্রস্রাব।

গুড! এই বলে প্রফেসর একটা আঙ্গুল তরলে ডুবিয়ে দিলেন। ছাত্র-ছাত্রীরা ওয়াক থু টাইপ আওয়াজ করল। তরলে আঙ্গুল রেখেই প্রফেসর বললেন,

-তোমাদের ঘেন্নাপাতি কমাতে হবে। মানসিক দৃঢ়তার জন্য এই ধরনের ঘৃনা থাকা ভালো নয়। যারা এখনো আমার আঙ্গুল চুবিয়ে রাখা পছন্দ করো নাই তারা ভালো করে লক্ষ্য করো। এইবলে প্রফেসর আঙ্গুল তুলে মুখে দিলেন। ছাত্রদের অবস্থা ত সেই রকম।

এরপর প্রফেসর বললেন, তোমরা সবাই ঠিক আমি যেভাবে আঙ্গুল চুবিয়েছি আর মুখে দিয়েছি সেইভাবে কর। সবাই আসো... একে একে...

ছাত্ররা তাই করল।

সবশেষে প্রফেসর বললেন, এবার তোমাদের পর্যবেক্ষনের প্রসঙ্গে আসি। বলো কতজন খেয়াল করেছো যে আমি তর্জনী চুবিয়েছি আর মধ্যমা মুখে দিয়েছি...




বুড়ো রিয়াদ সাহেব বিয়ে করেছেন এক কচি মেয়েকে। কিন্তু কয়েক হপ্তা পর দেখা গেলো, বিছানায় যত কায়দা কানুনই তিনি করেন না কেন, বউ বেচারির রাগমোচন হচ্ছে না।
রিয়াদ সাহেব ঠিক করলেন, তিনি ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।
ডাক্তার সব শুনে, সব দেখে রায় দিলেন - এক কাজ করুন। ফ্যান্টাসি সেক্স চেষ্টা করে দেখুন। ষন্ডা কোন ছোকরাকে ভাড়া করবেন। আপনারা যখন ঐসব করবেন, ছোকরা ন্যাংটা হয়ে দাঁড়িয়ে তালপাখা দিয়ে আপনাদের বাতাস করবে।
ডাক্তারের কথা কী আর ফেলা যায়? রিয়াদ সাহেব এক ষন্ডামতো ছোকরাকে ভাড়া করে বাড়ি নিয়ে গেলেন। ডাক্তারের নির্দেশমতো কাজ করেও কোন ফল পাওয়া গেলো না। চটেমটে রিয়াদ সাহেব আবার ডাক্তারের চেম্বারে হানা দিলেন।
ডাক্তার সব শুনে, সব দেখে আবারও রায় দিলেন এক কাজ করুন। এবার উল্টো ফ্যান্টাসি সেক্স চেষ্টা করে দেখুন। ষন্ডা কোন ছোকরাকে ভাড়া করবেন। এবার ছোকরা আপনার স্ত্রীর সাথে যখন ঐসব করবে, আপনি ন্যাংটা হয়ে দাঁড়িয়ে তালপাখা দিয়ে ওদের বাতাস করবেন।
মরিয়া রিয়াদ সাহেব ঠিক করলেন, তথাস্তু।
এবার একেবারে হাতেনাতে ফল পাওয়া গেলো। রিয়াদ সাহেবের বউ এক উথালপাথাল রাগমোচন লাভ করলেন।
উল্লসিত রিয়াদ সাহেব ষন্ডা ছোকরার কাঁধে টোকা দিয়ে বললেন, এবার বুঝেছো তো ছোকরা, কিভাবে ঠিকমতো বাতাস করতে হয়?




পাভেল খুব তোতলায়।

এমনটা ছোটবেলায় হতো না, এখন কেন হচ্ছে জানার জন্যে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করলো সে।
ডাক্তার প্রথমে নাক-কান-গলার বিভিন্ন টেস্ট দিলেন।যথাসময়ে রিপোর্ট হাতে এল,কিন্তু রিপোর্ট ডাক্তার এমন কিছু পেলেন না যার কারণে পাভেল এর এই হঠাৎ তোতলামি দেখা দিতে পারে।অবশেষে ডাক্তার তাকে থরো চেকআপ এর সিদ্ধান্ত নিলেন।এবং তাকে আপাদমস্তক পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে কারণটা খুঁজে পেলেন ডাক্তার।

তিনি পাভেলকে জানালেন, দেখুন মিস্টার পাভেল, আপনার দেহের বিশেষ প্রত্যঙ্গটি অত্যন্ত দীর্ঘ।সেটির ওজনে আপনার ভোকাল কর্ডে টান পড়েছে।প্রত্যঙ্গটি কেটে খানিকটা ছোট করা হলে সম্ভবত আপনার তোতলামি সেরে যাবে।আপনি রাজি হলে এখন যা আছে, তার অর্ধেকে আমি আপনাকে নামিয়ে আনতে পারি।তবে যে অর্ধেক সরিয়ে ফেলা হবে, সেটি কিন্তু আপনাকে হস্তান্তর করা হবে না।আপনি কি রাজি?

কী আর করা, পাভেল রাজি হলো।অপারেশন সফল হওয়ার পর তার তোতলামি একেবারেই সেরে গেলো।

কিন্তু পাভেলের বান্ধবী টিনা সব জানতে পেরে ভীষণ চটে গেলো।সে হুমকি দিলো, তোতলামি নিয়ে তার কোন আপত্তি নেই, কিন্তু অর্ধেক যদি সে ফেরত না নিয়ে আসে, এ সম্পর্ক সে রাখবে না।

মাসখানেক টিনাকে বোঝানোর চেষ্টা করে বিফল হয়ে শেষে পাভেল আবার গেলো ডাক্তারের কাছে।
ডাক্তারসাহেব, আমার অর্ধেক আমাকে ফিরিয়ে দিন- আব্দার জানালো পাভেল , তারপর বর্তমান পরিস্থিতি ডাক্তারকে বুঝিয়ে বললো।

কিন্তু ডাক্তার কোন জবাব দিলেন না, ভাবুক চোখে তাকিয়ে রইলেন তার দিকে।
পাভেল চটে গেলো।

: কী হলো, কথা শুনতে পাচ্ছেন না আমার? আমার অর্ধেক আমাকে ফিরিয়ে দিন।
: ডাক্তারও চটে গিয়ে বললেন, প-প-প-পারবো না। য-য-য-যান, ভ-ভ-ভাগেন এখান থেকে।




ডাক্তার : আপনাকে কতবার বলেছি চর্বিজাতীয় খাবার খাবেন না।
রোগী : খেতে চাই না, কিন্তু জিহ্বা যে মানে না।
ডাক্তার : এত বড় শরীর ছোট এক জিহ্বার সঙ্গে পারেন না, এ কেমন কথা?
রোগী : জিহ্বা তো আর একা নয় পেটও যে তাকে সাপোর্ট করে।




কথা হচ্ছে দুই বন্ধুর মধ্যে
১ম জন : আচ্ছা বল তো, হাসপাতালে যখন রোগীর অপারেশন চলে, তখন ডাক্তাররা মুখ ও মাথা ঢেকে রাখে কেন?
২য় জন : অপারেশনে যদি ডাক্তাররা কোন ভুল করে ফেলে তাহলে রোগী যেন তাদের চিনতে না পারে সেজন্য।




একদিন এক রোগী ডাক্তারের কাছে গিয়ে বলল, ডাক্তার সাব, আমার একটা অদ্ভুদ রোগ হয়েছে।
ডাক্তার বললেন, কি রকম?
রোগী বলল, আমি অল্পতেই রেগে যাই। গালাগালি করি
ডাক্তার বলল, ব্যাপারটা একটু খুলে বলুন তো।
রোগী বলল, হারামজাদা, কয়বার খুইল্লা কমু!!!




ডাক্তার রোগীকে ব্যাবস্খাপত্র দিয়ে বললেন -
ডাক্তার : আপনার খাবার সব সময় ঢাকা রাখবেন।
রোগী : কেন ? ঢাকা তো অনেক দূর ! কুমিল্লায় রাখলে চলবে না ?



Jokes: পথ-পথিক

বাজার করে আসার পথে ববের গাড়ি খারাপ হয়ে গেলো। সে গাড়ি থেকে নেমে এল। তার ফার্মটা কাছেই। হেটে যেতে মিনিট দশেক লাগবে। সে আপাতত গাড়িটা ফেলে রেখে চলেই যেতে পারত। পরে মেকানিক নিয়ে এসে ঠিক করা যেত গাড়িটা। কিন্তু সমস্যা হল সাথে কিছু বাজার আছে। একটা বড় হাস, দুইটা মুরগি, একটা বালতি আর চার লিটার রঙের ডিব্বা।
এতগুলা জিনিস কিভাবে নেয়া যায় সে বুঝে উঠতে পারছে না।

রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে সে এটা নিয়ে ভাবছে, এমন সময় খুব সুন্দর এবং বছর চব্বিশের এক মেয়ে তাকে জিজ্ঞেস করল,
-আচ্ছা, ৭৭ নম্বর ফার্মটা কোনদিকে?
-৭৭? আমার বাসার পাশেই। হেটে যেতে বড়জোর দশমিনিট লাগবে। আমিই আপনাকে সাথে নিয়ে যেতাম কিন্তু একটা হাস, দুইটা মুরগি,বালতি আর রঙের কৌটা নিয়ে হাটতে পারছি না।
-এককাজ করেন। রঙের কৌটাটা নেন বালতির ভিতর। মুরগি দুইটা নেন দুই বগলে আর হাসটা নেন আরেক হাতে।

বব তাই করল। চমৎকার কাজ করছে। পথে কথাবার্তায় মেয়ের নাম জানা হল লিসা। সে যাচ্ছে কাজিন জনের বাসায়।


পথের এক জায়গায় বব বলল, এই ওয়ালটার পাশ দিয়ে একটা শর্টকাট -আছে। এখান দিয়ে গেলে তাড়াতাড়ি হবে।
লিসা বলল, কিন্তু খুব নির্জন মনে হচ্ছে পথ।
-তাতে কি?
-আপনি একজন যুবক। আমি একজন তরুনী। ধরেন, আপনি যদি নির্জনে আমার সাথে u know what শুরু করতে চান?
-হা হা হা! আমার একহাতে বালতি, যেটার ভিতর রঙের কৌটা, আরেক হাতে হাস। দুই বগলে দুইটা মুরগি। আমি কিভাবে আপনার সাথে জোর করে কিছু করতে পারি?
-ধরেন, আপনি বালতি থেকে রঙের কৌটাটা বের করে সেটা উল্টিয়ে হাসটা রাখলেন। হাসটা যেন না পালাতে পারে সেজন্য রঙের কৌটাটা বালতির ওপর রাখলেন। তাহলেই হল।
-ভুল করছেন। দুইটা মুরগি আছে যে, সেগুলার কি করব শুনি?
একটু হেসে লিসা বলল, মুরগি দুইটা না হয় আমিই ধরে রাখলাম।




Jokes: পাগল

পাগলদের স্বভাব তো আপনারা সবাই কম বেশি জাননে। কোন পাগল বলে আমি বাংলাদেশের president ছিলাম, আবার কোন পাগল বলে আমি আমেরিকার president ইত্যাদি......

যাইহোক- একবার-president জিয়াউর রহমান পাবনার পাগলা গারদ পরিদর্শনে গিয়েছিল । ঐখানে পাগলদের মাঝখানে দাড়িয়ে president জিয়াউর রহমান পাগলদের উদ্দেশ্যে বলছেন- এই যে তোমরা আমাকে চেন ? আমি বাংলাদেশের president জিয়াউর রহমান !!

পাগলদের এক জন জবাব দিল- হি:! হি:! চিনি--চিনি, প্রথম - প্রথম সবাই এইরকম president থাকে- পরে সব ঠিক হয়ে যায় !




রোকেয়া হলের সামনে অনেক আগে এক পাগল থাকতো। মেয়েরা যখন হলের সামনে দিয়ে যেত তখন সে তার লুঙ্গীটা একটু তুলে বলতো, আপা দেখবেন?আর মেয়েরা লজ্জা পেয়ে চলে যেত।একদিন এক সাহসীকে মেয়েকে পাগলটি একই কথা বললে, মেয়েটি সাহস করে বলে উঠলো হে দেখবো দেখান কি দেখাবেন, তখন পাগল লজ্জা পেয়ে চলে গেল তারপর থেকে পাগলটি আর রোকেয়া হলের সানে আসেনি।





Jokes: পাঠকের পাঠানো

একটি গাভির সামনে দিয়ে একটি বিড়াল হেটে যাচ্ছিল।
গাভি: ইস! যেই না পুচকে ছোড়া, আবার গোফ রেখেছে, শরম করে না?
বিড়াল: এতো বড় ধাড়ী মেয়ে, ব্রেসিয়ার পরে না, শরম করে না?

......................

Jokes: পিতা-মাতা-সন্তান

পুত্র : বাবা, আজ একটা ভালো কাজ করেছি।
বাবা : কী কাজ?
পুত্র : পাশের বাড়ির মোটকা ভদ্রলোক আছেন না, রোজ অফিসে যেতে ট্রেন ফেল করেন, তাকে আজ ট্রেন ধরিয়ে দিয়েছি।
বাবা : তাই নাকি! কী করে?
পুত্র : প্রতিদিনের মতো তিনি হেলেদুলে হেঁটে চলছিলেন, লালুকে (বাঘা কুকুর) লেলিয়ে দিলাম তার পেছনে। ব্যস এমন ছোটা ছুটলেন।




শুধু তোমাকেই শোনাব

ছেলেঃ বাবা, আমাকে তবলা কিনে দাও না, আমি বাজানো শিখব।
বাবাঃ আমি কিনে দিই আর তুমি সবার কান ফাটাও।
ছেলেঃ না বাবা, আমি সারা দিন শুধু তোমাকেই শোনাব।




রেজাল্ট-এর উপহার

বাবা তার ছেলেকে বলছে : তুমি যদি পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করো তাহলে তোমাকে একটা সাইকেল কিনে দেবো।
ছেলে : আর যদি কোন কারনে খারাপ রেজাল্ট করি, তাহলে?
বাবা : সেক্ষেত্রে তোমাকে আমি একটা রিক্সা কিনে দেবো।




একদিন ছেলে বসে পড়ছিল তখন বাবা ছেলের পাসে বসল-
বাবা: তুই সারাদিন এমন চুপ চাপ থাকিস কেন?
ছেলে: কেন বাবা আমিতো কথা বলি।
বাবা: তোকে অযথা এত বকাঝকা করি অথচ কিছু বলিস না। প্রতিবাদ করিস না।
ছেলে: কেন বাবা, আমিতো প্রতিবাদ করি।
বাবা: কই করিস? আমি যে দেখি না।
ছেলে: কেন বাবা তুমি বকা দিলে আমি টয়লেটে যাই।
বাবা: টয়লেটে গেলে কি রাগ কমে? টয়লেটে গিয়ে কি করিস যে রাগ কমে?
ছেলে: টয়লেট ব্রাশ করি।
বাবা: টয়লেট ব্রাশ করলে কি রাগ কমে?
ছেলে: কেন আমি তোমার ব্রাশ (দাঁতের) দিয়ে টয়লেট ব্রাশ করি।




আল্লাহ কালা না

ছেলেঃ হে আল্লাহ, এবারের জন্মদিনে আমাকে একটা ফুটবল উপহার দিও।
মাঃ এভাবে চিৎকার করে কথা বলো না, আল্লাহ কালা না।
ছেলেঃ কিন্তু বাবা যে পাশের ঘরে।




চাঁদ বেশি দূরে, না নিউইয়র্ক

গভীর রাতে বাবার কাছে বই নিয়ে হাজির ছেলে।
বাবা, চাঁদ বেশি দূরে, না নিউইয়র্ক?
তুই অনেক বড় হয়েছিস, সেরিওঝা! বোকার মতো প্রশ্ন করিস কেন? আকাশের দিকে তাকা, তারপর উত্তর দে। কী দেখছিস আকাশে?
চাঁদ।
ঠিক। নিউইয়র্ক কি দেখতে পাচ্ছিস?
না।
তাহলে এবার কী সিদ্ধান্ত নিবি, তা নিয়ে মাথা ঘামা।




বাবা : তোমার জন্য এই নতুন ক্যালেন্ডারটা এনেছি।
ছেলে : না, এটা আমি নেব না।
বাবা : কেন? পছন্দ হয়নি? তাহলে কোনটা নেবে?
ছেলে : যে ক্যালেন্ডারে ছুটির দিন বেশি আছে সেটা নেব।




ছেলে : মা আজ বাসে একদম দুষ্টুমি করিনি। কমলা আর কলার খোসা জানালা দিয়েও ফেলিনি।
মা : তাহলে খোসাগুলো কী করেছ?
ছেলে : পাশের লোকের পকেটে ঢুকিয়ে দিয়েছি।




ছেলে পরীক্ষায় ফেল করেছে দেখে তার বাবা তাকে বকছে।
বাবাঃ হারামজাদা, পরীক্ষায় শেষ পর্যন্ত ফেল করলি। পাশের বাসার মালতীকে দেখ। সব বিষয়ে পাশ করছে।
ছেলেঃ পরীক্ষার সময় তো ওকেই দেখছিলাম, বাবা।




বাবা, মা এবং ছেলে একজায়গায় যাচ্ছে। ছেলেটির মা ছেলেটিকে একটি চকলেট কিনে দিল। ছেলেটি যখন চকলেটটি খেতে গেল তখন চকলেকটি পড়ে গেল।

ছেলেটি চকলেট তুলতে গেলে ছেলেটির মা বলল, পিন্টু, পড়ে যাওয়া জিনিস তুলতে নেই। যাও আরেকটা নিয়ে এসো।পিন্টু দোকানে গিয়ে আরেকটা চকলেট নিয়ে এল।

তারপর হাটতে হাটতে হঠাৎ করে পিন্টুর বাবা পড়ে গেল। পিন্টুর মা বাবাকে তুলতে গেলে পিন্টু মাকে বলল, মা, পড়ে যাওয়া জিনিস তুলতে নেই। যাও আরেকটা নিয়ে এসো।



Jokes: পেম-ভালবাসা-পরকীয়অ

মেয়েটি আমাকে ফোন করে ফিসফিস করে বলল, কেউ বাসায় নেই, ইচ্ছা হলে আসতে পার। আমি পড়িমড়ি করে ছুটে গিয়ে দেখি, আসলেই কেউ নেই বাসায়!




ভ্যালেন্টাইন ডে-তে এক প্রেমিক গেছে রেস্টুরেন্টে। উদ্দেশ্য ঐ রেস্টুরেন্টের সুন্দরী ওয়েট্রেসকে প্রেম নিবেদন করা। সুন্দরী ওয়েট্রেস এগিয়ে এল।
: কি দেব আপনাকে?
:একটা কাটলেট , কফি আর...
:আর?
:আর তোমার মুখ থেকে দাও কোন ভালোবাসার বানী � যা শোনার জন্য আমি যুগ যুগ ধরে অপেক্ষা করছি।
সুন্দরী ওয়েট্রেস অর্ডার নিয়ে চলে গেল। কিছুক্ষনের মধ্যেই কাটলেট আর কফি তার টেবিলে নামিয়ে রাখল। এবার উদগ্রীব প্রেমিক বাড়িয়ে দিল গলা কিছু শোনার অপেক্ষায়।
:কোন ভা..ভালোবাসার বানী..?
: সুন্দরী ওয়েট্রেস এবার মোহনীয় ভঙ্গিতে মাথা নামিয়ে আনল প্রেমিকটির কানের আছে। তারপর ফিসফিস করে বলল,�কাটলেটটা খেও না। ওটা দুইদিন আগের।�